নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ সংবাদ প্রকাশের পর ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের জনতার বাজার থেকে শতক পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার ১ মাসের মাথায় রাস্তায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় সরেজমিনে রাস্তার ভাঙন পরিদর্শন করেছে ঢাকা থেকে আসা তদন্ত কমিটি।
সোমবার দুপুরে রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন ঢাকা থেকে আসা এলজিইডির উধ্বর্তন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন এলজিইডির ঢাকার দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী, হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী। এ সময় তদন্ত দল সম্পূর্ণ রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন এবং অনেক স্থানে গর্ত করে রাস্তার মান যাচাই-বাছাই করেন।
হবিগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রক্ষিতে ঢাকা থেকে দুজন নির্বাহী প্রকৌশলী ও সিলেট ও হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী রাস্তা পরিদর্শন করেন। রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারের ফাইনাল বিল আটক করা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, বিগত প্রায় ৫/৬ বছর ধরে জনতার বাজার থেকে শতক পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর থেকে এ রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয় জনসাধারণ। গত বছরের ২৮ এপ্রিল জনতার বাজার থেকে শতক পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে দুই ঘন্টা বিক্ষোভ করে দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। এতে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তড়িৎ গতিতে আরএআরআইপি প্রজেক্টের অধিনে দেওপাড়া থেকে শতক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের জন্য ১ কোটি ৯ লাখ ৫২৭ টাকার টেন্ডার করা হয়। পরে কাজটি পায় হবিগঞ্জের গোলাম ফারুক নামে এক ঠিকাদার। তার কাছ থেকে কাজটি কিনে নেন নবীগঞ্জের ঠিকাদার রবিন্দ্র কুমার পাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজটি করান ঠিকাদার রবিন্দ্র কুমার পাল। রাস্তা মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার ১ মাসের মাথায় রাস্তায় দেখা দেয় ভাঙন। উঠে যায় অনেক স্থানের কার্পেটিং। বহুল প্রতীক্ষিত এ রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলেও অসাধু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজসে নি¤œমানের মালামাল ব্যবহার করার ফলে রাস্তায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনসাধারণ। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন দৈনিক হবিগঞ্জের মুখসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হয়।