শায়েস্তাগঞ্জে গণদোয়া মাহফিলে জি কে গউছ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আপসহীন অবস্থানই তাঁকে শাসকগোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ভেবেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই রাষ্ট্রক্ষমতা চিরস্থায়ী হয়ে যাবে। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মাত্র ২ কোটি টাকা আত্মসাতের একটি বানোয়াট, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন মামলায় আদালতকে ব্যবহার করে তাঁকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয় এবং কারাবন্দি করা হয়। সেদিন ন্যায় বিচারের বাণী চিৎকার করে কেঁদেছিল, কিন্তু তা শোনার মতো কেউ ছিল না। গতকাল বুধবার বিকেলে ৮নং শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির গণদোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে জি কে গউছ আরও বলেন, কারাগারে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ধীরে ধীরে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। এমনকি খাবারে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এই নিষ্ঠুরতা শুধু একজন নেত্রীর ওপর নয়, এটি ছিল পুরো জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার উপর আঘাত। আজ বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক যে পরিণতি, তার সম্পূর্ণ দায় শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের। ইতিহাস এই অন্যায় কখনো ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদার রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বিরামহীন আন্দোলন করেছেন, জেল জুলমের শিকার হয়েছেন। মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন। শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিল। ভয়ের রাজত্বে মানুষকে পরাধীন করার চেষ্টা করেছিল। সেই সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবনবাজি রেখে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাটুরিয়া, বাংলাদেশের এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ছুটে গিয়েছেন। মানুষের পক্ষে মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলেছেন, বার বার বাঁধার মুখোমুখি হয়েছেন, অসংখ্য মিথা মামলার আসামী হয়েছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া থেমে থাকেননি, কোনো বাঁধাই খালেদা জিয়াকে রুখতে পারেনি।
মোঃ ইলিয়াছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হাজী নুরুল ইসলাম, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল, সহ-সভাপতি ফজলুল করিম, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, বিএনপি নেতা আবদুল সহিদ মেম্বার, মন্নান মাস্টার, ছাবু মেম্বার, ছাইদুল ইসলাম, তৌফিক মিয়া প্রমূখ।