অনেক সম্ভাবনার জেলা হবিগঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জেলা হবিগঞ্জ। রাজনৈতিক ঐতিহ্যের জেলা হবিগঞ্জ। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও নাট্য আন্দোলনের জেলা হবিগঞ্জ। ধর্মীয় ঐতিহ্যের জেলা হবিগঞ্জ। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা হবিগঞ্জ। সর্বোপরি শান্তির জেলা হবিগঞ্জ। অনেক সমস্যার আবর্তে নিমজ্জিত আমাদের এই প্রিয় হবিগঞ্জ। অনেক সম্ভাবনার মধ্যে যুক্ত হয়েছে শিল্প কারখানা। আর সমস্যার মধ্যে যুক্ত হয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়।
সম্মানিত পাঠকবর্গ কেউ কেউ বলতে পারেন- আমার ভূমিকায় ‘হবিগঞ্জ দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা’ কথাটা লিখিনি কেন? একথা সত্য যে, শান্তির জেলা হবিগঞ্জে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও আমাদের গর্বের মানুষের উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছে। প্রায়ই ছোটখাট ঘটনার জের ধরে হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এগুলোকে হবিগঞ্জবাসী বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখেন। তবে এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে এর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এবং আমরা যেন দাঙ্গামুক্ত থাকতে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়- একজন ভাল চালক প্রতিদিন খুব ভাল ড্রাইভিং করেন। বছরের পর বছর তিনি গাড়ি চালাচ্ছেন কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। খুব ভাল চালক তিনি। কিন্তু যদি ষোল বা কুড়ি বছরের মাথায় অসাবধানতাবশত একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান তাহলে একদিনের দুর্ঘটনাই তার সারা জীবন শেষ করে দিল। তেমনি একদিনের দাঙ্গা কেড়ে নেয় তরতাজা প্রাণ। আমরা চাইব একদিনের দুর্ঘটনা বা দাঙ্গা যেন না ঘটে। শান্তির জেলা হবিগঞ্জ যেন শান্তিময় থাকে। দাঙ্গামুক্ত থাকে। দুর্ঘটনামুক্ত, দাঙ্গামুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও জঙ্গীমুক্ত হবিগঞ্জ গড়তে ভূমিকা রাখবে ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’। এ আমাদের অঙ্গীকার। হবিগঞ্জ শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পদক্ষেপের সাথে আমরা থাকব একাট্টা। পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে হবিগঞ্জকে রক্ষা করতে সাহসী কলম সৈনিকের ভূমিকা রাখবে ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’।
সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি আমাদের কলমযুদ্ধে সম্পৃক্ত হয়েছেন হবিগঞ্জের প্রথিতযশা সাংবাদিক মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, কবি তাহমিনা বেগম গিনি, রুমা মোদক ও তোফাজ্জল সোহেল। মনসুর উদ্দিন ইকবাল ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছেন অর্ধশত বছরের হবিগঞ্জের চিত্র। হবিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কথা জানাচ্ছেন রুমা মোদক আর তোফাজ্জল সোহেল জানাবেন পরিবেশের কথা।
প্রিয় পাঠক, আমরা চাই ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’ যেন সত্যিকার অর্থেই হবিগঞ্জের মুখ হয়ে উঠে। যে মুখ কথা বলবে তার উপর জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে। ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’ হবিগঞ্জবাসীকে জানাবে তার মুক্তিযুদ্ধের বীরগাঁথা। তুলে ধরবে হবিগঞ্জের সম্ভাবনার কথা, রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা, সাহিত্য-সংস্কৃতির কথা, তুলে ধরবে ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলো। সেই সাথে আমাদের সংবাদকর্মীগণ প্রতিদিনের সর্বশেষ খবরাখবর তুলে ধরবেন সম্মানিত পাঠকবর্গের কাছে। পাশাপাশি সম্মানিত পাঠকবর্গও হয়ে উঠতে পারেন ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’ এর একেকজন সংবাদকর্মী। আপনারা আপনাদের আশেপাশের যে কোন সমস্যা কিংবা সম্ভাবনার কথা লিখে আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। আমরা তা প্রকাশ করবো আপনাদের নাম-পরিচয় দিয়ে। ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’কে আমরা সম্মানিত পাঠক, সাংবাদিক ও জেলাবাসীর অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ ও পাঠক সমাদৃত পত্রিকা করতে চাই। এজন্য চাই সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা।
সবশেষে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাদের প্রতি যারা ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’ প্রকাশনায় নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাদের প্রতি যারা বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’ এর অগ্রযাত্রায় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাদের প্রতি যারা নানা ব্যস্ততার মধ্যেও লেখা দিয়ে আমাদের স্বপ্নের এই পত্রিকাকে সমৃদ্ধ করেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাদের প্রতি যারা নিয়মিত ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’ পড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং যারা নিয়মিত পড়ে আমাদের সাথে থাকবেন। আর আমাদের সংবাদপত্র হকার সমিতির নেতৃবৃন্দ ও এর সকল সম্মানিত সদস্যের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা যে, তারা ‘দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ’ পত্রিকাকে সম্মানিত পাঠকবর্গের কাছে পৌঁছে দিতে এবং পত্রিকাটির অগ্রযাত্রায় আমাদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
হারুনুর রশিদ চৌধুরী
সম্পাদক