হবিগঞ্জ শহরের চিড়াকান্দি এক বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। শুক্রবার হবিগঞ্জ শহরে ব্লকেড কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর করে তারা। একই সাথে শহরের চিড়াকান্দি এলাকায় একটি বাসা ভাংচুর করা হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে সদর থানার এসআই মকসেদ
মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ও জনতা দুইটি ফিকল ও ৩টি বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। তাছাড়া গতকাল রাতে শহরের রাজনগর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী জেনারেল হাসপাতাল ভাংচুর করা হয়। এসব ঘটনায় শহরজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে ব্লকেড ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচির ডাক দেয় ছাত্র-জনতা। নামাজ শেষে সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা কোর্ট মসজিদের সামনে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। সেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। কুশপুত্তলিকা দাহ করার পর শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কোর্ট মসজিদ থেকে শুরু হয়ে শহরের চিড়াকান্দি এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্লগার সুশান্ত দাস গুপ্তের শ^শুরের বাসায় ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত ছাত্র-জনতা। এ সময় ওই বাসায় থাকা সুশান্ত দাস গুপ্তের একটি অফিস থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ফেরার পথে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরালে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে গিয়ে আবারও বিক্ষোভ করেন। তাঁরা হাদি হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আন্দোলনকারী নেতা ও জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন দোষীদের গ্রেফতার ও আন্দোলনকারী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে গতকাল রাত ৯ টায় শহরের রাজনগর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী প্রাইভেট হাসপাতালে ভাংচুর করে উত্তেজিত জনতা।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোছাঃ ইয়াছমিন আক্তার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

