হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পদূষণ, নদ-নদীর অবস্থা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহঃস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), হবিগঞ্জ’ এর উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল। এছাড়াও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শাকির আহম্মদ। তিনি সুতাং নদীর পানি ও মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা যায়, সুতাং নদীর পানিতে প্রতি লিটারে ৬.৬৭ থেকে ৪৬.৬টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। পানিতে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের মধ্যে খ-াংশ ও ফাইবারের আধিক্য বেশি এবং এগুলোর আকার মূলত ০.১ থেকে ০.৫ মিলিমিটারের মধ্যে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, সুতাং নদীর ৩০টি মাছের পরিপাকতন্ত্রে মোট ৫১টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে, যা গড়ে প্রতিটি মাছে প্রায় ১.৭টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বড় আকারের মাছ তুলনামূলকভাবে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করে, যা খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ ও দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত পরিবেশে থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে পলিথিন, পলিইথিলিন টেরেফথালেট, পলিআমাইড এবং সেলুলোজ অ্যাসিটেট ধরনের প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা মূলত প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও বস্ত্রশিল্প থেকে সৃষ্ট দূষণের ইঙ্গিত দেয়।
সেমিনারে বক্তাগণ বলেন, নদী ও জলজ পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ ভবিষ্যতে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের গবেষণা দেশের মিঠাপানির পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের মাত্রা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিজ্ঞপ্তি

