নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান সজীবের বাড়ি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার গোপালনগর গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান সজীবের বাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব অঞ্চলের তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানসহ সবজি ক্ষেত ডুবে যাচ্ছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষজন।
সোমবার সকালে সরেজমিনে কুশিয়ারা নদীর পাড়ের নগর, গোপালনগর, শরীফনগর ও কাকাইলছেও এলাকাগুলোতে দেখা যায়, টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে যাওয়াতে এসব এলাকার আবাদি ফসল ডুবে গেছে। কৃষকরা তাড়াহুড়ো করে আধা-পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন। বেশিরভাগ কৃষক অন্যান্য আবাদি ফসল তুলতে না পারায়, কুশিয়ারার পানিতে এসব ডুবে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন অনেক কৃষক।
কুশিয়ারা নদীর পাড়ের কৃষক ফজর আলী বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি ডুকে আমাদের ধানী জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে আমার ৫ কের জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে।
গোপালনগরের বাসিন্দা সাবেক উপজেলা ভাইস মমিনুর রহমান সজীবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে জানান, নদীগর্ভে আমার বাড়িসহ গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও আমাদের গ্রামের অনেক কৃষকের হাওরের ধানী জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমার কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু আমারই নয়, গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমি নদীভাঙ্গণ প্রতিরোধে সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি।
একই গ্রামের বাসিন্দা সাজু মিয়া বলেন, ‘আমার তিনটা ঘর, সুপারির বাগান সব ভেঙে নদীতে গেছে। এবারই আমার প্রথম ভাঙন হয়। আমার কোনো প্রস্তুতি ছিল না।
পাউবো হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, আগামী ৫ দিন ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় হবিগঞ্জের এই চার নদ-নদীতে পানিবৃদ্ধি পেতে পারে। তবে পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে কুশিয়ারা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আজমিরীগঞ্জের নগর, গোপালনগর, শরীফনগরসহ আশপাশ এলাকার শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও কৃষি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তালিকা করছি।

