নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জে ভযাবহ সংঘর্ষে শতাধিক আহত ও দুই জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। আরেকটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। এসব মামলায় নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ ২৪ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর কখনও এতো সাংবাদিক একসাথে মামলার আসামি হননি। নাম উল্লেখ ছাড়া আরও অনেক সাংবাদিক গ্রেফতার আতংকে ভুগছেন। স্থানীয় অনেকেই মন্তব্য করেন- ব্যক্তি রেষারেশি ও সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় থেকে বেশির ভাগ সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ এসল্ট বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামীরা হলেন- দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকার সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি এম,এ আহমদ আজাদ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম তালুকদার, সাবেক সহ সভাপতি আশাইদ আলী আশা, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি আলমগীর মিয়া, প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ নাবেদ মিয়া, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম নাহিদ ও বাদল আহমদ। তিমিরপুর গ্রামের ফারুক মিয়া হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে আরও ৯ সাংবাদিককে। তারা হলেন- নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি এটিএম সালাম, সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিঠু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়া, সাবেক সহ সভাপতি আশাইদ আলী আশা, বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য অলিউর রহমান অলি, প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ নাবেদ মিয়া, মোঃ আলাল মিয়া, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম নাহিদ ও বাদল আহমদ। গত বুধবার ইউনাইডেট হসপিটাল ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন হাসপাতালের পরিচালক মাহবুবুল আলম সুমন। এই মামলায় তিন সাংবাদিককে আসামি করা হয় তারা হলেন- দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকার সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক সেলিম তালুকদার, দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার জাবেদ ইকবাল তালুকদার। এছাড়া সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার আনমনু গ্রামের রিমন হত্যা মামলায় আরও ৫ সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিন প্রতিনিধি এম,এ বাছিত, দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকার সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক সেলিম তালুকদার, প্রেসক্লাবের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ছনি আহমদ চৌধুরী ও দৈনিক হবিগঞ্জ সময় পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার জাবেদ ইকবাল তালুকদার। এছাড়াও এসব মামলায় আরও গং আসামি থাকায় অনেক সাংবাদিক গ্রেফতার আতংকে ভুগছেন। এসব সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনার সাথে জড়িত থাকলেও বেশির ভাগ আসামি হয়েছেন প্রতিহিংসার শিকার হয়ে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি এম,এ আহমদ আজাদ বলেন, ঘটনার দিন আমি বাসায় ছিলাম, অথচ আমাকে পুলিশ এসল্ট মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি বিগত তিন মাস ধরে নবীগঞ্জ শহরে যাই না। এভাবে আক্রোশমুলক অনেককে আসামি করা হয়েছে।
নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি এটিএম সালাম বলেন, আমাদের প্রেসক্লাবের দুই সাংবাদিকের বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। এখন গণহারে সাংবাদিকদের আসামি করা হয়েছে।